০৮ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:১৫, ৮ জুন ২০২৬

বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. জোবায়ের (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন কালু।

সোমবার (৮ জুন) ভোররাতে মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয় বলে জানান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।

মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন: বন্দরের দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মানিক (২৫), কল্যান্দী খালপাড় এলাকার দিদার হোসেন নাক্কী সজিব (২৭)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান মানিক গত ৩ জুন অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তাকে এই হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিলম্ব এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগে রোববার রাতে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। পরে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা থানা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

পরে অভিযুক্ত এসআই মাসুদকে বন্দর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর কল্যান্দী ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে জোবায়েরের গতিরোধ করে ছিনতাইকারীরা। এ সময় তারা তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে প্রধান আসামি মানিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জোবায়ের মারা যান। তিনি পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার রিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে এবং বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন তারা অভিযোগ দিতে বন্দর থানায় গেলে কর্তব্যরত এসআই মাসুদ তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এছাড়া ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে রোববার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

তবে ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের পর অভিযুক্ত এস আইকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি আগেই প্রধান আসামি মানিক গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়