০৮ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ৮ জুন ২০২৬

আপডেট: ২২:৪৪, ৮ জুন ২০২৬

‘বিচারব্যবস্থা এখনো প্রধানমন্ত্রী নির্ভর’: ত্বকী হত্যার ১৫৯ মাসে রফিউর রাব্বি

‘বিচারব্যবস্থা এখনো প্রধানমন্ত্রী নির্ভর’:  ত্বকী হত্যার ১৫৯ মাসে রফিউর রাব্বি

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৯ মাস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি দ্রুত এ হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা সদস্য সচিদ আবুনাইম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলন জেলার নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিপ্লবি ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা ও কবি কাজল কানন।

রফিউর রাব্বি বলেন, “আমাদের বিচার ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী নির্ভর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছেন তাই ত্বকী হত্যার বিচার সাড়ে ১১ বছর বন্ধ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেয়েছেন বলে রামিছা হত্যার বিচার ১৯ দিনে সম্পন্ন। এইটি কোন স্বাধীন-বিচারব্যবস্থা নয়, সরকার নিয়ন্ত্রিত-বিচারব্যবস্থা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা দেশে একটি বিচার ব্যবস্থা তৈরি করতে পারি নাই। এত বছরে দেশে কোন সরকারই তা চায় নাই। সরকারগুলো চেয়েছে বিচারব্যবস্থাকে কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার বানাতে। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাককে আলাদা করা না গেলে এই বিচারব্যবস্থায় জনগণের লাভ হবে না।”

এ পর্যন্ত ১০৪ বার ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েনি উল্লেখ করে ত্বকীর পিতা বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে ত্বকীর ঘাতকরা বীরদর্পে সারা শহর দাপিয়ে বেরিয়েছে। এখন ঘাতকরা পালিয়ে গেলেও সে ঘাতকের ছবি নিয়ে দুর্বৃত্তরা এখনো মিছিল করে। প্রশাসন তখনো ঘাতকদের বিরুদ্ধে ছিল না, এখনো প্রশাসন তাদের ব্যপারে নিরব। দুর্বৃত্ত লালনের পথ থেকে কোন সরকারই বেরিয়ে আসতে পারছে না। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে কোন পরিবর্তনই জনগনের কল্যাণে আসবে না, টেকসইও হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযোগপত্রে হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং ক্যাডার শাহ নিজামসহ হত্যায় জড়িত সকলের নাম থাকতে হবে। দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দিতে হবে।”

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করেন। ১৪ বছর আগে সংঘটিত সাগর-রুনি হত্যা ও ১০ বছর আগে সংঘটিত তনুহত্যাসহ নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার দ্বারা নিহত সকল হত্যার বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো পেশ করা হয় নাই।

ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিমাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়