১৩ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৬, ১৩ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২১:১৫, ১৩ মার্চ ২০২৬

পাইপ পড়ে শিশুমৃত্যু: ৩ লাখ টাকায় ‘মিমাংসার চেষ্টা’ তাঁতীদল নেতার

পাইপ পড়ে শিশুমৃত্যু: ৩ লাখ টাকায় ‘মিমাংসার চেষ্টা’ তাঁতীদল নেতার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিং মেমিনের পাইপ পড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা দিয়ে মিমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মধ্যস্থতা করছেন জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনায় নিহত হয় মুনতাসীর ইসলাম হামজা (৫)। সে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার মো. রুবেলের ছেলে। শিশুটির ডাকনাম ইয়াছিন।

নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার পর নির্মাণাধীন ভবনের মালিকপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিশুটির বাবা রুবেল বলেন, ঘটনার সময় তিনি কাজের জন্য কুমিল্লায় ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন।

“উজ্জ্বল ভাই ঠিকাদারের সাথে মসজিদে বসছিল। এলাকার আরও লোকজন ছিল। তারা আমারে তিন লাখ টাকা সাধছে। আমি টাকা দিয়া কী করমু? আমার রাজপুত্রের মতো পোলাডাই যেইখানে নাই,” কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় একটি মসজিদে বসে ভবন মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল মধ্যস্থতা করেন।

তবে নিহত শিশুর বাবা বলেন, তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে চান না এবং ঘটনার আইনি প্রতিকার চান।

এদিকে, সন্তানের মরদেহ ময়নাতদন্তে দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন রুবেল। তিনি বলেন, “মরার পর আবার বাচ্চাটারে কাটাছেঁড়া করতে দিতে মন চাইতেছে না।”

যোগাযোগ করা হলে সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অনুরোধে তিনি আলোচনায় বসেছিলেন।

“পরিবারটা গরিব। বাচ্চা তো আর ফেরত দেওয়া যাবে না। ঠিকাদার কিছু টাকা দেওয়ার কথা বলেছে। আমরা কয়েকজন মসজিদে তা নিয়ে আলাপে বসছিলাম,” বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে প্রতিবেদন না করতেও অনুরোধ জানান এ তাঁতীদল নেতা।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, নির্মাণাধীন ভবনে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হলেও পিলারগুলো সরানো হয়নি। শিশুটি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পাইপ পড়ে গুরুতর আহত হয়।

পরিবারের সদস্যরা তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি বলেন, “কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। এখানে ভবন মালিক ও ঠিকাদারের অবহেলা ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “মিমাংসার চেষ্টা বা টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়