প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় সচেতনতার আহ্বান নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, “আরও ৩০-৩৫ বছর আগে শীতলক্ষ্যা নদীর পানিকে ডাবের পানির সঙ্গে তুলনা করা হতো। নারায়ণগঞ্জের অনেকে শীতলক্ষ্যার পানি খেত। আজ শীতলক্ষ্যা নদী পার হতে হলে নাক ধরে পার হতে হয়, কারণ পানি এত দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে।”
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ আয়োজিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “শীতলক্ষ্যা নদী আগে মৎস সম্পদে ভরপুর ছিল, কিন্তু আজ সেখানে কোনও মাছ নেই। ১০-১৫ বছর আগে জেলেরা মাছ শিকার করত। সেই অবস্থা ফিরিয়ে আনতেই আমরা একটি খাল খনন করছি। সেখানে টনে টনে প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে আছে। প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনায় নাসিক ইতিপূর্বে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে। এখনই এটি সমাজ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো বা শেষ করার জন্য আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে অভিশাপ দিচ্ছে। যদি আমরা এখনই পদক্ষেপ না নেই, তারা আরও বেশি অভিশাপ দিবে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া জরুরি।”
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বলেন, “নারায়ণগঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তনশীল অবস্থায় ঝুঁকি বেশি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। নদীগুলো বাঁচাতে না পারলে আমরা বিপদে পড়ব। আমাদের জীবনযাত্রায় প্লাস্টিকের ব্যবহার এত বেশি হয়েছে যে প্রকৃতি দূরে সরে গেছে। মাইক্রো প্লাস্টিক এত বেশি যে মানব ভ্রুণ এবং মস্তিষ্কেও পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। তবে প্লাস্টিককে শুধু বর্জ্য হিসেবে নয়, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবেও দেখতে হবে।”
সভায় নাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিক তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মো.আজগর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফিক ক্লাবের কো-ফাউন্ডার আলোকচিত্রশিল্পী জয় কে রায় চৌধুরী, মঈন ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার চিত্রশিল্পী মুনতাসির মঈন প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ প্রায় তিন দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং দূষণের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করে আসছে। বিশেষত পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মাইক্রো প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্লাস্টিক রিসাইকেল ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন পাইরোলাইসিস তেল এবং বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করছে।
তার ধারাবাহিকতায় ‘জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিষেবা প্রদানের জন্য জনগণের অভিযোজন পরিকল্পনা’ প্রকল্পের অধীনে ১১ ও ১২ মার্চ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রথম দিনে নাসিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা, ছবি আঁকা ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে। বৃহস্পতিবার বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার তুলে দেন নাসিক প্রশাসক।






























 বিকেলে শহরের একটি মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।.jpg)






