০৭ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:০৩, ৬ মার্চ ২০২৬

কমিউনিস্ট পার্টির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা 

কমিউনিস্ট পার্টির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা 

সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে শোষণ-বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম জোরদার করার প্রত্যয়ে সিপিবি'র ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল ৪ টায় বঙ্গবন্ধু সড়কের সিটি দোয়েল প্লাজার ৫ম তলায় কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী, বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আঃ হাই শরীফ, শাহানারা বেগম, বিমল কান্তি দাস, আব্দুস সালাম বাবুল, শিশির চক্রবর্তী, সদস্য দুলাল সাহা, জাকির হোসেন, দিলীপ কুমার দাস, শোভা সাহা, মৈত্রী ঘোষ, ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি রনজিত কুমার দাস প্রমুখ।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, এদেশের শ্রমিক, কৃষক মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ (৬ মার্চ ২০২৬) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছি। ১৯২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে মিলিত হয়ে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন। একই অধিবেশনে গঠিত হয় পার্টির পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে প্রাদেশিক কমিটির চতুর্থ সম্মেলনে পৃথক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন পার্টি হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি’ কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে সিপিবি দেশ পুনর্গঠন ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬৯'র গণ'অভ্যুত্থান, ৭১'র মুক্তিযুদ্ধ, ৯০'র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাত-শিবির নিষিদ্ধের আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সিপিবি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে অতীতে যেমন সিপিবি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। তেমনি আগামীতে বাংলাদেশে শোষণ-বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং সমাজতন্ত্র অভিমুখী লড়াইয়ে নিবেদিত থাকবে।

তারা আরও বলেন, বিগত ৫৪ বছর ধরে পূঁজিবাদী শাসক গোষ্ঠী দেশের সাধারণ মানুষের সাথে বারবার প্রতারনা করে আসছে।

লুটেরা পুঁজিবাদী শক্তি, মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই গড়ে তোলা হবে। শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষকে সংগঠিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করা হবে। একই সাথে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব চুক্তি বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী। দেশের বন্দর বা করিডর বিদেশি স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়