১৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ইসদাইরে মাদক ও অপরাধের নিয়ন্ত্রক রাজ্জাক বাহিনী

ইসদাইরে মাদক ও অপরাধের নিয়ন্ত্রক রাজ্জাক বাহিনী

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইরে মাদক কারবার, আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক অপরাধী গ্রুপের নেতৃত্ব বদলালেও ইসদাইরে অপরাধের মাত্রা কমেনি। বর্তমানে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজ্জাক ও তার সহযোগীদের একটি গ্রুপ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে চাষাঢ়া রেলস্টেশনসংলগ্ন পূর্ব ইসদাইরে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, অভিযানে বাধা দিয়ে হামলা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিলে রাজ্জাকের ছেলে জসিম গুলিবিদ্ধ হন। পরে জসিম ও তার সহযোগী মোহনকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ইসদাইরে ছিনতাই, মাদক কারবার, ঝুট ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, খুন, অপহরণ ও গোলাগুলির ঘটনা দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, গত পাঁচ বছরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ২০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

স্থানীয়দের মতে, ইসদাইরের অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ামক মাদক ব্যবসা। যে গ্রুপ মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখে, তারাই এলাকায় আধিপত্য, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইসদাইরের কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাহিয়ান আজম ইভনের নাম আলোচনায় ছিল। তিনি আজমেরী ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। একই সময়ে ফারুক বাহিনী নামের একটি গ্রুপও এলাকায় সক্রিয় ছিল। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর প্রতিপক্ষের হামলায় ইভন নিহত হওয়ার পর তার গ্রুপের তৎপরতা কমে যায়।

এরপর ইসদাইর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তার, হামলা, মারামারি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজ্জাক বা তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ইসদাইরের অনেক বাসিন্দা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চান না। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, মাদক বিক্রি ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।

রাজ্জাক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানও হয়েছে। গত এপ্রিলে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে মো. ওয়াসিমকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। এর কয়েকদিন আগে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ রাজ্জাকের আরেক ছেলে জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবি, জামিনে মুক্তির পর রাজ্জাক ও তার দুই ছেলে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট ইসদাইর রেললাইন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ইসদাইরের ব্যবসায়ী আরিফ রহমান বলেন, ‘অপরাধীরা বড় ধরনের অপরাধ করেও কোনো সমস্যায় পড়ে না। খুন করে, অস্ত্রসহ আটক হয়ে কিছুদিন পর আবার আরও শক্তিশালী হয়ে জামিনে বের হয়ে আসে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে একটি বা দুটি নয়, অসংখ্য সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে কখনো ইসদাইরে শান্তি আসবে না।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘ইসদাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুতই সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

স্থানীয়দের আশঙ্কা, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সংঘাত আরও বাড়তে পারে। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস, অস্ত্রের সরবরাহ ও অপরাধী চক্রের নেপথ্যের ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়