আইভীর নামে ফেসবুকে ভুয়া একাউন্ট-পেজ
নিজে কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাউন্ট বা পেজ না খুললেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নামে বেশ কয়েকটি একাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ সচল রয়েছে। এসবের কোনোটিই আইভী পরিচালনা করেন না, এমনকি কখনো তিনি ফেসবুকে একাউন্টই খোলেননি বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি আইভীর কারামুক্তির পর এইসব একাউন্ট ও পেজের কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জামিনে থাকা আইভীকে আইনি জটিলতায় ফেলার শঙ্কাও করছেন পরিবারের সদস্যরা।
ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলায় ও ইংরেজি বর্ণে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নামে বেশ কয়েকটি একাউন্ট ও পেজ সক্রিয় রয়েছে। ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া অন্তত ১৫টি একাউন্ট ও পেজের মধ্যে একটি ‘মেটা ভেরিফায়েড’। ডিজিটাল ইতিহাস খুঁজে দেখা যায়, এটি সম্প্রতি ভেরিফায়েড করা হয়েছে। এ পেজের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার।
একই নামে কিছু ফেসবুক কমিউনিটিও (গ্রুপ) পাওয়া গেছে। এসব একাউন্ট ও পেজের বেশিরভাগ আবার গত বছরের ৯ মে আইভীর গ্রেপ্তারের পর চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি এগুলো আরো সক্রিয় হয়েছে।
আইভীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই এবং তিনি কখনো ফেসবুক ব্যবহারও করেননি। এ কারণে ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে পরিবারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট, পেজ বা গ্রুপ থেকে যদি প্রচলিত আইনবিরোধী কোনো কার্যক্রম করা হয় কিংবা উস্কানিমূলক কোনো বার্তা প্রচার করা হয়, তার দায় কোনোভাবেই সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নয়।
জনপ্রিয় ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজ খুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। তবে আইভীর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা ১২টি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে ফেরেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরে ২০১১ সালে পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে তিনি প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালের নির্বাচনেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার তাঁকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে।
আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন।





































