০৪ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১২, ৪ জুন ২০২৬

বিএনপির হাতে মার খাচ্ছে বিএনপি, বিভক্তি প্রকাশ্যে

বিএনপির হাতে মার খাচ্ছে বিএনপি, বিভক্তি প্রকাশ্যে

নারায়ণগঞ্জে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিজের দলীয় নেতাকর্মীদের হাতেই লাঞ্ছিত হচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘটিত এসব ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।

২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে সড়কে ফেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। অভিযোগ রয়েছে, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাউসার আশার অনুসারীরা এ হামলা চালায়।

এর পরের বছর ২০২৫ সালের ২৯ জুন একই উপজেলার হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল হামলার শিকার হন। তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে অপদস্থ করার অভিযোগ ওঠে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এরও আগে ২০২২ সালে চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে অতর্কিত হামলায় আহত হন মহানগর বিএনপির প্রবীণ নেতা মনির খান। ওই হামলার জন্য যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের অনুসারীদের দায়ী করা হয়।

চলতি বছরের গত ২৯ মে সদর উপজেলার আলীরটেকে একটি অনুষ্ঠানে দেরিতে শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে ঘুষি মেরে আহত করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু।

এর কয়েকদিন পর বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা জেলা বিএনপির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার অন্তত কয়েকজন নেতা জানান, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করলেও এমন পরিস্থিতি হতাশাজনক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছিল। অথচ হামলাকারীরা আমাদেরই দলীয় লোকজন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে দলীয় শৃঙ্খলা দুর্বল হচ্ছে এবং জনগণের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “দলের ভেতরে বিভক্তি তৈরি করে এমন কিছু আমরা প্রত্যাশা করি না। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নেতাকর্মীদের বলবো এমন কিছু করবেন না, যা অন্যদের সুযোগ করে দেয়। এখন ঐক্যবদ্ধ থাকার সময়।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধারাবাহিক এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারে থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের সামাল দিতে না পারলে ভুগতে হবে দলটিকে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়