সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে যা বললেন এমপি আল আমিন
গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্য দেওয়ার বিরোধীতা করে ‘ওয়াকআউট’ করেছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যেরা। এ নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
তার মতে, আওয়ামী লীগ আমলের রাষ্ট্রপতিকে প্রথম সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘সংসদ কলঙ্কিত’ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক একাউন্টে স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করেন আল আমিন। তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সমন্বয়কারী।
তিনি লিখেছেন, “বিষয়টা নৈতিকতার। সাংবিধানিকভাবে চুপ্পু রাষ্ট্রপতি কিন্তু সে গণধিকৃত ফ্যাসিস্ট রেজিমের অংশ। হাসিনাও সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ছিলো কিন্তু ছাত্রজনতা তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল। তখন চুপ্পুকেও সরাতে চেয়েছে ছাত্রজনতা কিন্তু বিএনপি সাংবিধানিক শূন্যতার অজুহাত দিয়েছে। যেহেতু সরকার নাই, পার্লামেন্ট নাই, স্পিকার নাই সেহেতু রাষ্ট্রপতিও না থাকলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে এই অজুহাতে বিএনপি চুপ্পুকে সরতে দিতে চায় নাই।”
“তাই আইনীভাবে যতটুকু কাজ না করলেই না, ঠিক ততটুকু কাজের মধ্যে চুপ্পুকে আটকে রেখেছিল ইন্টেরিম। কিন্তু বিএনপি এসে চুপ্পুকে পাবলিক অনুষ্ঠানে আনছে, বেগম জিয়ার পুরস্কারও তার হাত দিয়ে দেয়াচ্ছে! চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল রাখছে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার ‘চাইলেই’ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত বলে মনে করেন এ সংসদ সদস্য।
আল আমিন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বলেন, “অথচ এখন সাংবিধানিক শূন্যতা নাই। এখন নির্বাচিত সংসদ আছে। চাইলেই চুপ্পুকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেয়া যায়। প্রথম অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রপতি ইস্যুতেও সমাধান করা যেত। কিন্তু বিএনপি সম্ভবত কার্যকর সংসদ চায় না। চাইলে চুপ্পুকে সামনে আনতো না।”
গণঅভ্যুত্থানের পরের এই সংসদকে ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ মন্তব্য করে এনসিপির তরুণ এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, “এখানে যারা সংসদ সদস্য, সবাই ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের সৈনিক। এবারের সংসদ ফ্যাসিস্টদের গনতান্ত্রিকভাবে বয়কটের নজির। অথচ এতো সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করা হলো একজন ফ্যাসিস্ট রেজিমের রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য প্রদান করতে দিয়ে। চুপ্পুকে আইনী ফাঁক-ফোকরের ছাড় দেয়া, অপসারণ পর্যন্ত রুটিন ওয়ার্ক করানো আর তাকে স্বাভাবিক স্পেস দেয়া এক বিষয় না। এ বোধটুকু আমাদের বন্ধুরা হারিয়ে ফেলেছেন। রাজনীতির স্বার্থে ফ্যাসিস্ট জায়গা দিচ্ছেন, কুযুক্তিও দিচ্ছেন। অবৈধ ফ্যাসিস্ট রেজিমের নিয়োগ করা প্রেসিডেন্টকে রেখে দিয়ে, বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল বর্তমান বৈধ সংসদকে কলংকিত করছেন। শেইম!”
“চুপ্পুর অভিশংসন ও বিচার করতে হবে। চুপ্পু মাস্ট গো..”, লিখে স্ট্যাটাস শেষ করেন আল আমিন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের আসনটিতে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আল আমিন। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পান।





































