প্রতিশোধের নয় সবাইকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই: সিরাজুল মামুন
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম সিরাজুল মামুন বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন মানুষ প্রয়োজন। পুরোনো ও পচা রাজনীতি দিয়ে এই দেশ কখনো নতুন বাংলাদেশ হতে পারে না। যে রাজনীতি গত ৫৪ বছরে মানুষের মুক্তি দিতে পারেনি, সেই রাজনীতি আবার ফিরে এলে এ দেশের মানুষের মুক্তি কোনোদিন আসবে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পুরোনো রাজনীতিই এক সময় নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত করেছিল, শীতলক্ষ্যা নদী ধ্বংস করেছে এবং মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তরুণদের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গত ১৭ মাসে এই রাজনীতি দেশের মানুষের শত্রুকে পরিষ্কারভাবে চিনিয়ে দিয়েছে। জনগণ আর এই অপশক্তিকে দেখতে চায় না।
এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, আজ প্রয়োজন নতুন রাজনীতি ও নতুন নেতৃত্ব। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নেতা হবে জনগণের ঢাল—যার কাছে গিয়ে মানুষ নিরাপত্তা পাবে। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও খেলাফত মজলিশের প্রার্থীরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, পুরোনো রাজনীতির ধারায় হুমকি-ধামকি ও হত্যার রাজনীতি শুরু করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে জনগণ ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলার মানুষ সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে।
নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জে জুলুম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কষ্টের টাকা আর লুট করা যাবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করবো, তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেব না।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই। ১২ ফেব্রুয়ারি যেন বাংলাদেশের জুলুমতন্ত্রের শেষ দিন হয়—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
চক্রান্তের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলার মানুষের স্বপ্ন নষ্ট করতে পারবে না। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমে মানুষের মুক্তির লড়াই এগিয়ে নেওয়া হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।





































