মানুষ হত্যার রাজনীতিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে: আবদুল জব্বার
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেছেন, আমরা ভেবেছিলাম আর কোনো বাবা তার সন্তান হারাবে না, কোনো বোন ভাই হারাবে না। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক দলীয় কোন্দল ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের হামলায় ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক ভাই-বোন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বেদনাদায়ক বাস্তবতা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সত্য কথা বলা এবং আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করার কারণে বিভিন্ন এলাকায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অনেককে হত্যা ও আহত করা হয়েছে। সম্প্রতি শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, রাজনীতি মানে প্রতিযোগিতা, রাজনীতি মানে কল্যাণ। কিন্তু যে রাজনীতি মানুষ হত্যা করে, সেই রাজনীতিকে আগামী দিনে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ৩ ও ৪ আগস্ট অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী নিহত হন। আজও সেই শহীদ পরিবারের সদস্যরা সমাবেশে উপস্থিত আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তাদের সামনে শপথ করছি—আগামী দিনে আর কোনো ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে শামীম ওসমান গোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল, এখন আবার কিছু দল সেই একই পথে হাঁটতে চাচ্ছে। তাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হলে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।
আড়াইহাজারে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনী কাজে যুক্ত নারী কর্মীদের নেকাব ও বোরকা টেনে খুলে ফেলা হয়েছে। যারা নারী স্বাধীনতার কথা বলে, তারাই আজ নারীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এর জবাব ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, জামায়াতে ইসলামী সত্য বলছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার নৈতিক অধিকার তাদের নেই, যারা দেশের বাইরে থেকে মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, সত্য ও হকের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থানের জন্য জামায়াতের শীর্ষ ১০ জন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বারবার সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে মানুষের মাঝে ভুল নারেটিভ ছড়ানো যাবে না। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ।
শেষে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করা হবে। ১২ তারিখ হবে মাজলুমের বিজয়ের দিন এবং নারায়ণগঞ্জের বিজয়ের দিন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।





































