২২ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:২৮, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী কে কোন প্রতীকে লড়ছেন

হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী কে কোন প্রতীকে লড়ছেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ আসনে ও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। এদের অধিকাংশই এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কেউ কেউ ছিলেন সংসদ সদস্য কিংবা জনপ্রতিনিধি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের দলীয় ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনের চূড়ান্ত ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ঘোষণা করেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কে কোন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন। তিনি পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। মাকসুদ হোসেন বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কারণে বন্দর উপজেলায় তার শক্তিশালী কর্মী বাহিনী ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে তিনি একসময় এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওসমান পরিবারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জয়ী হওয়ার পর ওই বলয়ের বাইরে থাকা ভোটারদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে দুইজন প্রভাবশালী সাবেক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি তাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। তিনি ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সাংগঠনিক শক্তির কারণে এখনো এ আসনে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের দিন তার সঙ্গে বিএনপির একাধিক পরিচিত নেতাকর্মীর উপস্থিতি সেই শক্তির ইঙ্গিত দেয়।

অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি মো. শাহ আলম পেয়েছেন হরিণ প্রতীক। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়নে এ আসনে নির্বাচন করে মাত্র আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ওই নির্বাচন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে এখনো তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে দুইজন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিম। মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে নির্বাচন করছেন। দুই আসনেই তিনি পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক।

অন্যদিকে বিএনপির প্রবীণ নেতা রেজাউল করিম পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক। তিনি টানা চারবার বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেছেন এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘ সময় এলাকার এমপি থাকার কারণে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জে তার শক্তিশালী কর্মীসমর্থক ও ভোটারভিত্তি রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আতাউর রহমান আঙ্গুর। তিনি পেয়েছেন কলস প্রতীক। তিনি বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা এবং পরপর তিনবার দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করেছেন, যার মধ্যে দুইবার বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আড়াইহাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব এখনও সক্রিয়, যা ভোটের মাঠে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. দুলাল। জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন জাহাজ প্রতীক।

যদিও সংসদ নির্বাচনে তিনি নতুন, তবে রাজনীতিতে নয়। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়