১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২২:১৫, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রচারণার শেষ দিনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

প্রচারণার শেষ দিনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন প্রার্থীরা। শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় মুখর ছিল সদর, বন্দর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ আড়াইহাজারসহ নির্বাচনী আসনগুলোর পাড়া-মহল্লা। সকাল থেকে গণমিছিল, গণসংযোগ, পথসভা ও লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়েছেন তারা। অনেকে রাত পর্যন্তও ছিলেন প্রচারে। কেনন আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর প্রচারণা চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী গত মাসের ২২ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। যা চলবে আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সব ধরণের জনসভা, মিছিল ও মাইকিং বন্ধ রাখতে হবে আর এই প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

এমনকি বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছেন। ভোটারদের মন জয় করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও ভোট চাইছেন প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা। এ সময় নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে ভোটারদের।

অনেকে আবার শেষদিনে ভোটারদের নজর কাড়তে শেষদিনে গণমিছিল বের করেছেন। তারা নিজ নিজ সংসদীয় আসনে শোডাউন করেছেন। দেখিয়েছেন নিজেদের সামর্থ্যও।

এর মধ্যে সকাল থেকেই জেলার নির্বাচনী আসনগুলোতে প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা প্রচারনা চালাচ্ছেন। কেউ পায়ে হেঁটে কিংবা মাইকে প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের কাছে নিজের প্রতীক ও ইশতেহার তুলে ধরেন।

এর মধ্যে গত কয়েকদিনে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন তারা শহরে বিশাল গণমিছিল এবং শোডাউন করেছেন তারা। অন্যদিকে শেষ দিনেও তৃণমূলে প্রচারণা চালাচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহ, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লবসহ অন্যারা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশী প্রচারণা মুখর রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এখানে প্রার্থী হিসেবে রয়েছে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুর গাছ প্রতীকের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীকের মোহাম্মদ শাহ আলম, এনসিপির শাপলা কলির আব্দুল্লাহ আল আমিন, রিপালিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী- প্রত্যেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন বিগত দিনগুলোতে। সেই শেষ সময়ে সরব রয়েছেন তারা।

প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাসদের সেলিম মাহমুদ, জাসদের মো. সুলাইমান দেওয়ান, সিপিবির ইকবাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ একতারা অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় তারা ছিলেন অনেকটাই পিছিয়ে।

এদিকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের  সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে শেষ দিনে নির্বাচনের মাঠে থাকা প্রার্থীরা সরব রয়েছেন ভোটারদের মন জয় করার।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাও শেষ মূহুর্তে চলছে জোরালে ভাবে সোনারগাঁ উপজেলা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩। এ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান সেই সাথে বিএনপির প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন দলটির বহিষ্কৃত নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তার প্রচারণা অনেকটাই ব্যক্তিগত অনুসারী ও পুরোনো রাজনৈতিক বলয় ঘিরে। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জকে গিয়াস উদ্দিনের সবচেয়ে বেশী প্রচারণা হচ্ছে। 

এ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রবীণ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন সোনারগাঁ উপজেলার প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনী মাঠে তার তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাক অনুসারী নিয়ে তিনিও প্রচারণা চালিয়েছেন। সেই সাথে মাঠে রয়েছে অন্যান্য প্রার্থীরাও জামায়াতের ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ, জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম ঈগল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী ট্রাক প্রতীকে তারা সীমিত জনবল নিয়ে মাঠে  প্রচারণা চালিয়ে গিয়েছেন এবং তারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আতাউর রহমান আঙ্গুর কলস প্রতীকে নির্বাচন করছেন তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে যাচ্ছে তার ব্যক্তিগত অনুসারীরা। অন্যদিকে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ প্রচারণায় রয়েছেন সবচেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে সিপিবির হাফিজুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াস মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।

তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে। তবে লোকবল ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় মাঠের প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আজাদ। তিনিও তার অনুসারীরা শেষ দিনেও প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ধানের শীষ প্রতীকে প্রচারণায় মাঠে শুরু থেকেই সরব ছিলেন সেই সাথে মাঠে তার শক্তি হিসেবে তার কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। যা শেষ দিনেও বিদ্যমান।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল ও গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও অন্যান্য প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, সিপিবির মনিরুজ্জামান চন্দন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল প্রচারে ছিলেন শেষদিনও।

প্রচারণার শেষ দিনে নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছেও আলাদা করে ভোট চাওয়া হচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সেইসাথে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়