১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:৪১, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন তারিকুল সুজন

তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন তারিকুল সুজন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন। জুলাই অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে তারিকুল ও তার দলের অবস্থান, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে পরিবর্তনের বার্তা এবং ব্যতিক্রমী প্রচারণা কৌশল তাকে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে তারিকুল ইসলাম সুজন ও তার দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা এই আসনে তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তার দলের অঙ্গসংগঠন ‘ছাত্র ফেডারেশন’-এর নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথে তার উপস্থিতি, সংগঠনের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান তরুণদের কাছে তাকে একটি বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে। অনেক তরুণ ভোটারের চোখে তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে উঠে আসা একজন প্রতিনিধি, যিনি রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার নয়, পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন।

নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন তারিকুল ইসলাম সুজন। পরিবেশ দূষণ, যানজট, গ্যাস সংকট, গাছকাটা, বাসভাড়া বৃদ্ধি ইস্যুসহ বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনে তিনি রাজপথে থেকেছেন। নাগরিক বিভিন্ন সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয়দের একটি অংশের কাছে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধেও কথা বলতে কখনো পিছপা হননি এই প্রার্থী। আলোচিত ত্বকী হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই বিচারের দাবিতে ওসমান পরিবারের অবস্থানের বিপক্ষে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। তার এই সাহসী অবস্থান তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নির্বাচনী প্রচারণাতেও প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কৌশলী পথ বেছে নিয়েছেন তারিকুল সুজন। শোডাউন, গণসংযোগ বা ব্যানার-পোস্টারের পাশাপাশি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলছেন তিনি। ভোটারদের দৈনন্দিন সমস্যা ও প্রত্যাশা শুনে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।

তারিকুল ইসলামের মতে, জনগণের মুখোমুখি সংলাপ ছাড়া একজন জনপ্রতিনিধির পক্ষে মানুষের বাস্তব চাহিদা বোঝা সম্ভব নয়। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও ঘরোয়া প্রচারণা কৌশলের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে তার দূরত্ব কমছে। স্থানীয়দের চোখে তিনি একজন সহজলভ্য, কথা শোনায় আগ্রহী এবং নির্বাচিত হলে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কৌশল বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এবারের নির্বাচনে তারিকুল ইসলাম সুজনের প্রচারণার সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যতিক্রমী দিক হলো ‘হাতের মুঠোয় এমপি’ নামে একটি সিটিজেন কানেক্টেড অ্যাপের ধারণা। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই নিজেদের সমস্যা, অভিযোগ, প্রস্তাব বা জরুরি সেবার আবেদন সরাসরি সংসদ সদস্যের দপ্তরে জানাতে পারবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে অনেকেই সময়োপযোগী ও নতুন রাজনৈতিক ধারা হিসেবে দেখছেন।

তারিকুল ইসলাম সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমাবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। নির্বাচিত হলে অ্যাপটিকে জনগণের সঙ্গে সরাসরি ও কার্যকর যোগাযোগের একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রতিশ্রুতি তরুণ, শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলছে।

সব মিলিয়ে আন্দোলন থেকে উঠে আসা পরিচয়, ভিন্নধর্মী প্রচারণা কৌশল এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক ভাবনার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তারিকুল ইসলাম সুজন তরুণ ভোটারদের কাছে একটি বিকল্প ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ভোটের মাঠে এই সাড়া কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়