১৫ বছরে ভোটের অধিকার হরণকারীদের বিচার হবে: মামুন মাহমুদ
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে ভয়ের রাজনীতি কায়েম করা হয়েছিল। যার ফলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি, আর গেলেও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।
তিনি বলেন, “এর আগে কখনোই ছোট ছোট ভোট চাওয়ার সভা-সমাবেশ দেখা যায়নি। কারণ মানুষ ভয় পেত। ভোটকেন্দ্রে গেলেও সবার সামনে টেবিলে বসে ভোট দিতে হতো। বুথে গিয়ে গোপনে ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা গত ১৫ বছর ভয়ের রাজনীতি সৃষ্টি করেছিল, তারা আজ জনগণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। যারা পালাতে পারেনি, তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অথবা কারাগারে রয়েছে। তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
মামুন মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ওই সময় জনগণের ভোটাধিকার হরণ, মানুষের সম্পদ লুট, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই অপরাধগুলোর বিচার করতে হলে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আনতে হবে। কারণ বিএনপি জনগণের শক্তি ও ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।”
বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বিচার চান, যারা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে চান, তাদের ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, “৯২ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে দেশকে অস্থিতিশীল করা যাবে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্ষা করেই আমাদের একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।”
সভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। মামুন মাহমুদ বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটি করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। পরিবারের কর্তা হিসেবে নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা সমপরিমাণ অর্থ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাবে।
এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুল।





































