১৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:২৯, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৩০, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

অস্ত্র হাতে ছবি দেখলে আপা যেন রাগ না করেন, বলেছিলেন শামীম ওসমান

অস্ত্র হাতে ছবি দেখলে আপা যেন রাগ না করেন, বলেছিলেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সশস্ত্র হামলার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে অবগত করে তার অনুমতি নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন জমা দেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শামীম ওসমান ও ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথনের একটি অংশ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “১৯ জুলাই ২০২৪ শামীম ওসমান ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বলছেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না; সাহায্য চাইছে, আমাকে অস্ত্র হাতে নিতে হইছে। আমি কিন্তু অস্ত্র ছাড়া আর মুভ করতে পারছি না। দৌড়াইয়া পানিতে নামাইছি সবগুলারে। দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। সজল মোল্লার সাথে আলাপ করছি, বলছি তোমরা আমারে সাপোর্ট দাও। আমরা চিটাগাং রোড খালি করতাসি। আপনি একটু আপা..নেত্রীকে বলে দিয়েনে, অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে উনি যেন রাগ না করে।”

“উনাদের এ কথোপকথন আমরা ট্রাইব্যুনালে পড়ে শুনিয়েছি এবং ফরেনসিক রিপোর্ট জমা দিয়েছি”, যোগ করেন প্রসিকিউটর।

তিনি আরও বলেন, “এখানে আমরা দেখিয়েছি, উনি অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। নিজে বলেছেন, নেত্রী অর্থাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন রাগ না করে। তার অ্যাপ্রুভাল তিনি ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে নিয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সেতু মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন।”

গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে। যেখানে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ, ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে তার বাড়ির ছাদে খেলা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জটি দাখিল করা হয়েছে। যেখানে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানও রয়েছে।”

২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্টের ঘটনায় ১০ জনকে হত্যা, অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুলি করে এবং পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল দেখে, প্রমাণ পর্যালোচনা করে সকল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করেন তিনি।

আসামিদের গ্রেপ্তার করে আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজির করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।

প্রত্যেক আসামির ব্যাক্তিগত দায় তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারা যে অপরাধ করেছেন তার পাশাপাশি তাদের একটি পরিচয় তদন্তকারী সংস্থা আমাদের দিয়েছেন, সেটি আমরা ট্রাইব্যুনালে পড়ে শুনিয়েছি। এই আসামিরা জুলাই অপরাধের বাইরেও কি কি করেছেন। সেখানে আমরা দেখিয়েছি, এই আসামিরা নারায়ণগঞ্জের ত্রাস ছিল। সেখানে তিনি নানা অপরাধ কর্মকন্ডের সাথে জড়িত ছিল। বহুল আলোচিত ত্বকী হত্যাকান্ডের সাথেও সম্পৃক্ত ছিল।”

শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর এই সশস্ত্র হামলায় রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত রাইফেলস ক্লাবের অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এইচএম তামিম।

তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলার এসপি রাইফেলস ক্লাবের সভাপতি হয়ে থাকেন। তবে নারায়ণগঞ্জ একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে রাইফেলস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন শামীম ওসমানের একজন লোক। যিনি আন্দোলন চলাকালে রাইফেলস ক্লাবে জমাকৃত সকল অস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার উপরে গুলি চালিয়েছেন। সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটুকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।”

মামলাটি ভিডিও-ভিত্তিক অভিযোগ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে এবং স্থানীয় জুলাইযোদ্ধা, আন্দোলনকারী যাদের সম্পৃক্ত করে স্বাক্ষর দিয়েছে তাদের অভিযোগে আনা হয়েছে। পুরো ম্যাসাকারে চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড ও ফতুল্লার অংশের কোনো ভিডিও, ডকুমেন্টারিতে পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু বিষয় পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়