মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এমপি-মন্ত্রী হওয়া লাগে না: সোহাগ
মানুষের কল্যাণ ও সমাজের উপকার করতে কোনো রাজনৈতিক পদ বা এমপি-মন্ত্রী হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ২৬ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি রাজনীতির বাইরে থেকেও মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান।
সম্প্রতি প্রেস নারায়ণগঞ্জকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আমার ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারের প্রায় ২৬ বছর পার করেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি দেখিয়েছি যে, মানুষের উপকার করার জন্য কোনো রাজনীতি করার প্রয়োজন হয় না। আমার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই এবং ভবিষ্যতে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার কোনো ইচ্ছাও নেই। আমি রাজনীতি করতে চাই না। মানুষের ক্ষতি না করে সারাজীবন উপকার করার চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতেও যতদিন বাঁচব মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।”
তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসায়ী, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করি। ৫ আগস্টের পর যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল, আমরা তাদের সাথেও কাজ করেছি। বর্তমানে বিএনপি সরকার রয়েছে এবং বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত চমৎকার ও দূরদর্শী একজন আইকনিক নেতা। এই সরকারের সাথে আমরা অতীতেও কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও সরকারের সকল সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে কাজ করে যাব।”
ফ্লাওয়ার মিল খাতের আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অসংখ্য কলকারখানা থাকলেও ফ্লাওয়ার মিল হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে কোনো পরিবেশ দূষণ নেই। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে সারাদেশে প্রায় সাড়ে পাঁচশত মিলার রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে আমার লক্ষ্য হলো এই খাতকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা।”
তিনি আরও বলেন, “আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ফ্লাওয়ার মিলের কার্যক্রমে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরা আমাদের উদ্যোক্তা ও সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি, যাতে মানুষের চাহিদা ও খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনা যায়। দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে আমরা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা অতীতেও করেছি, বর্তমানেও করে যাচ্ছি।”
একজন সফল ব্যবসায়ীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, “কেবল যোগ্যতা থাকলেই সফল ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তার জন্য কিছু ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হয়। একজন ব্যবসায়ীকে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোক্তার সাথে সমন্বয় করে চলতে হয়। এই পুরো শিকলের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই কঠিন কাজটিই আমরা সততার সাথে করে আসছি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছি।”





































