জ্বালানি তেলের সংকটে ফিরছেন গ্রাহকরা, প্রশাসনের অভিযান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হওয়ার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৭ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত প্রান্তিক সার্ভিস স্টেশন, সাইনবোর্ডে প্রাইম ফিলিং স্টেশন, চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনসহ জেলার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রল, অকটেন এবং ডিজেলের মজুদ, চাহিদা ও সরবরাহ যাচাই করা হয়। এছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোকে সতর্ক করা হয়, যাতে তারা তেলের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করে।
অভিযানকালে প্রান্তিক সার্ভিস স্টেশন থেকে মোটরবাইক চালকরা তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। অনেক চালক অভিযোগ করেন, যদিও স্টেশনে তেল রয়েছে, কিন্তু তাদের দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের ফলে তেল সংকট তৈরি হয়েছে। তবে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাইনবোর্ড এলাকার প্রাইম ফিলিং স্টেশন, চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন ও ফিরোজ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিফ আল তাওহীদ। একইভাবে, সানাড়পাড় এলাকার মেসার্স জোনাকী ফিলিং স্টেশন ও মেঘনা ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাবাসসুম হাসান তানিশা।
এছাড়া, সদর উপজেলার চাষাঢ়ায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর। বন্দর উপজেলার ১০টি পেট্রোল পাম্পে পুলিশসহ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার, এবং রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ মারজানুর রহমান। এছাড়া, সোনারগাঁ উপজেলারও তেলের পাম্পগুলো পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান। এ সময় একটি পাম্প বন্ধ পাওয়া যায়।
এই অভিযান তেল সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।





































