এলপিজি গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ব্যবহৃত গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসা-বাড়ি ও খাবারের দোকানগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে রান্না। সিলিন্ডার গ্যাস না পেয়ে দোকানে দোকানে ঘুরেও ফিরে যাচ্ছেন গ্রাহকরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকার এলপিজি গ্যাস বিক্রির দোকানগুলো অধিকাংশই বন্ধ। যেগুলো খোলা রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেই গ্যাসের কোনো সরবরাহ নেই। আবার কোথাও কোথাও গ্যাস থাকলেও অতিরিক্ত দামে বিক্রির আশায় দোকান বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ বিক্রি করলেও স্বাভাবিক দামের তুলনায় অনেক বেশি মূল্য হাঁকাচ্ছেন।
এলপিজি সংকটের পাশাপাশি লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গ্যাসেও সমস্যা দেখা দেওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ পড়েছেন দ্বিগুণ সংকটে।
স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। চাহিদা থাকলেও সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও জানান তারা।
অন্যদিকে, আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি না থাকায় এলপিজি গ্যাসনির্ভর পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। অনেক বাসায় রান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সামর্থ্যবান কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনলেও সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।
দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা মহিমা বেগম জানান, শনিবার সকালে জল্লারপাড় এলাকার সায়মন এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দোকান খোলা পেলেও সিলিন্ডার গ্যাস পাননি।
তিনি বলেন, “গতকাল (শনিবার) রাত থেকেই আমাদের বাসায় রান্না হয়নি। সকালে কিনে খেয়েছি, কিন্তু দুপুরের রান্নার কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি। বাসায় অন্য কোনো চুলাও নেই। এখনই বৈদ্যুতিক চুলা কেনার মতো সামর্থ্যও নেই।”
সায়মন এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী মো. নাফিজ বলেন, “অনেক ক্রেতা এসে ফিরে যাচ্ছেন। ডিলারদের ফোন দিলে তারা শুধু বলেন, সিলিন্ডার সংকট। যাদের বাসায় বাসায় গ্যাস সরবরাহ করি, তারাও বারবার ফোন দিচ্ছেন। তারাও রান্না করতে পারছেন না।”
খাবারের দোকানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মজুদ থাকা সিলিন্ডার দিয়ে কোনোভাবে রান্না চালানো হচ্ছে। আবার অনেক দোকানে কাঠের চুলায় রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অনেক দোকান পুরোপুরি বন্ধও রয়েছে।
মিলন হোটেলের কর্মচারী জুনাঈদ হোসেন বলেন, “গতকাল গ্যাস শেষ হওয়ার পর আজ অর্ডার দিলে ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম চাইছে ১৮০০ টাকা, যেখানে আগে ১৩০০ টাকার বেশি লাগতো না। এত বেশি দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো সম্ভব না।”
এলপিজি গ্যাসের এই সংকট দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।





































