১৩ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০০, ১৩ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২২:০১, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে ডকইয়ার্ডে চাঁদার দাবিতে হামলা-ভাঙচুর, মালিককে মারধরের অভিযোগ

বন্দরে ডকইয়ার্ডে চাঁদার দাবিতে হামলা-ভাঙচুর,  মালিককে মারধরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একট্ ডক ইয়ার্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মালিককে ধরে নিয়ে মারধর এবং তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডকইয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক আরেকটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বন্দরের নবীগঞ্জ ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দী এলাকায় এস এ হাইড্রোলিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস কোম্পানিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়ে পুলিশ।

ডকইয়ার্ডের ম্যানেজার মো. ফায়েজ আহম্মেদ (৪২) বন্দর থানায় দায়ের করা অভিযোগে খন্দকার আমজাদ হোসেন (৫৫), তাঁর দুই ছেলে মো. হৃদয় (৩০) ও সুলতান মাহমুদ আপন (২৩), আরিফ (২৮)সহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করেছেন।

অভিযোগে ফায়েজ আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ডকইয়ার্ডের প্রধান ফটকে হামলা চালান। তাঁরা গেট ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশের পর ডকইয়ার্ডের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমান খান (৪২) অফিসে ছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁকে জোর করে অফিস থেকে বের করে ফ্যাক্টরির বাইরে একটি বটগাছের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তজমাট জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ফায়েজ আহম্মেদ আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে ব্যবহার করে একটি ঝুটের গুদাম ও ক্লাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছেন। এর প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি মাসে ফ্যাক্টরি থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সংক্রান্ত চাঁদা দেওয়ার স্লিপ ও স্বাক্ষর সংরক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেউলী বটতলা এলাকার মো. আরিফ হোসেন (৫২) বন্দর থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

আরিফ হোসেনের অভিযোগ, শীতলক্ষ্যা নদীর জেলেপাড়া ঘাটে জাহাজ ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে ডক মালিক মো. ইমনসহ কয়েকজন তাঁকে ও আরও দুজনকে মারধর করেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে জেলেপাড়া ঘাটে গোসল করতে গেলে একটি জাহাজ ঘাটে ভেড়ানোর সময় তাঁকে জাহাজের নিচে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে গালিগালাজ করে মারধর এবং লাঠি দিয়ে পেটানো হয়।

তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হৃদয় ও আপন নামের আরও দুজনকে মারধর করে আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আরিফ হোসেন।

এবিষয়ে বন্দর থানার এস আই লুৎফর রহমান জানান, ৯৯৯ এ সংবাদ পাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তখন উভয়পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এবিষয়ে উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টিকে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়