২১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০৪, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২২:০৫, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

বহিষ্কার হচ্ছেন রেজাউল-আঙ্গুর-দুলাল

বহিষ্কার হচ্ছেন রেজাউল-আঙ্গুর-দুলাল

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মো. শাহ্ আলম। একইপথে হেঁটে বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন রেজাউল করিম, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মো. দুলাল। কেননা, মনোনয়নপত্রের শেষদিনেও তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল। এদিন, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন প্রার্থী ছাড়া বাকিরা কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে, ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন ৪৭ জন।

এই চূড়ান্ত প্রার্থীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মো. দুলাল। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আসনটিতে বিএনপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে প্রার্থী করলেও বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক এ যুবদল নেতা। তার অনুসারী নেতা-কর্মীরাও তার পক্ষে কাজ করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি নজরুল ইসলাম আজাদকে প্রার্থী করলেও এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী হয়েছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন-বঞ্চিত কয়েকজন নেতা শুরু থেকেই আজাদের বিরোধীতা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হন। কিন্তু দলছুট হয়ে প্রার্থিতা বজায় রেখেছেন আঙ্গুর।

অন্যদিকে রেজাউল করিম নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনীত করেছে। রেজাউল করিম বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। পরে তিনি বিএনপির সংস্কারবাদী অংশটির সঙ্গেও যুক্ত হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কার ঝুঁকিতে আছেন তিনিও।

দু’টি আসন- নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এক সময় কৃষক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত গিয়াস পরে জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।

গত ১ জানুয়ারি বিএনপি থেকে গিয়াস উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি সর্বশেষ দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হন নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শাহ্ আলমও। তিনি এর আগে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলের একাধিক সূত্র বলছে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি। এবারের নির্বাচন দলটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার আসনগুলোতে আলাদা নজর আছে বিএনপির। ফলে, আসনগুলোতে দল এবং জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের পথে বাধাগুলোতে দূর করতে সচেতন তারা। এ কারণেই গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যাতে অন্য বিদ্রোহী প্রার্থীরাও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু রেজাউল করিম, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মো. দুলাল বিদ্রোহীর তালিকায় নিজেদের নাম পোক্ত করেছেন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকা বিএনপির এ তিন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানা গেছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়