২১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৫১, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:১৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

আছেন বিএনপির বিদ্রোহীরা, সমঝোতা হয়নি ইসলামী-বামপন্থী জোটেও

আছেন বিএনপির বিদ্রোহীরা, সমঝোতা হয়নি ইসলামী-বামপন্থী জোটেও

নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৪৭ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তাদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী যেমন রয়েছেন, তেমনি ১০ দলীয় জোটেরও একই আসনে একাধিক প্রার্থী আছেন। এমনকি, বামপন্থী দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টেরও দু’টি আসনে একাধিক শরিক দলের প্রার্থী আছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিলের পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০ জন। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। এ সময় পর্যন্ত মাত্র তিনজন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। 

“বুধবার চূড়ান্ত এ ৪৭ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় যেতে পারবেন। তবে, সেক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে হবে প্রার্থীদের।”

চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে সাতজন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ছয়জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এগোরোজন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তেরোজন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দশজন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তবে, আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। তবে, আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।

তবে, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম আসনটিতে এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী। যদিও গিয়াস উদ্দিন ইতোমধ্যে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।

এদিকে, আসনটিতে ইসলামিক ও সমমনার দশ দলীয় জোটের চারটি শরিক দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। তারা হলেন: জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান ও আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী।

তবে, স্বতন্ত্র হিসেবে মো. শাহ্ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনও আছেন। গিয়াসের মতো শাহ আলমও প্রার্থী হয়ে কয়েকদিন আগে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়েছেন।

আসনটিতে দশ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন হলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন শেষদিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

অন্যদিকে, বামপন্থী দলগুলোর গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টেরও একাধিক শরিক দলের প্রার্থী আছেন। তারা হলেন: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান ও সিপিবির ইকবাল হোসেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এ আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী নেই।

তবে, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের শরিক দল বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ও সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ; দু’জনই আসনটিতে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন।

জোটের প্রার্থীরা সরে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মহানগরের প্রচার সম্পাদক আব্দুল মোমিন বলেন, “দু’টি আসন নিয়ে জোটের এখনো আলাপ চলমান রয়েছে। আমরা শীঘ্রই এ দু’টি আসনে বিষয়গুলো সমাধানে চলে আসবো।”

তবে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি জোটের শরিক দলগুলোর জন্য ‘ওপেন’ রাখারও ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে, বাসদের জেলা কমিটির সদস্য সেলিম মাহমুদ বলেন, “দু’টি আসনে আমরা জোট থেকে ফ্রি রেখেছি। সেখানে আসন সমঝোতা হয়নি। জোটের শরিক দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।”

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শেষদিনে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আ. কাইয়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে একই দলের প্রার্থী মো. আবুল কালাম দুলাল এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়