০৬ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ৬ জুন ২০২৬

উন্মাদনা কমেছে বিশ্বকাপের, জার্সির বাজার মন্দা

উন্মাদনা কমেছে বিশ্বকাপের, জার্সির বাজার মন্দা

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেলেও এবার জার্সি বিক্রি কমে এসেছে বলে জানাচ্ছেন খেলার সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তবে, বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলে বেচাকেনা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা তাদের।

যদিও ক্রেতারা বলছেন, বিগত সময়ের তুলনায় জার্সি, ফুটবল ও পতাকার দাম এবার চড়া। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

চার বছর পরপর আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর এবার বসছে তিনটি দেশে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত এ ফুটবল লড়াই শুরু হবে। যাতে অংশ নিচ্ছে ৩২টি দেশ। ফাইনাল ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করতে পারলেও দেশের মানুষের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিবারই বিশ্বকাপ এলে বিক্রি বেড়ে যায় বিভিন্ন দলের জার্সির। তবে, এবার বাজার একটু মন্দা থাকলেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।

এছাড়া, জার্মানি, পর্তুগাল, ফ্রান্স, স্পেন ও থাইল্যান্ডের জার্সিও রয়েছে ক্রেতা চাহিদায়। তবে নারায়ণগঞ্জ শহরের দোকানগুলোতে মিলছিল জাপান, ইংল্যান্ড, কানাডা, মেক্সিকো এবং মরক্কোর জার্সিও। স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতে এবং ভ্যানেও পাওয়া যাচ্ছে জার্সি।

সাধারণ মানের জার্সি ফুটপাতে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা দোকানে গিয়ে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। তবে, মানে আরেকটু উন্নত জার্সির দাম হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে শিশুদের সাইজের জার্সির দাম কিছুটা কম।

বিক্রেতারা বলছেন, খেলার মাঠ কমে যাওয়া, কিশোর-তরুণদের মোবাইল আসক্তি এবং অনলাইন কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় দোকানে বিক্রি কম।

বেচাকেনা কম থাকায় শহরের ডিআইটি এলাকায় ‘স্পোর্টস মার্কেটে’র দোকানে কিছুটা অলস ভঙ্গিতে চেয়ারে বসেছিলেন রাফিন সরদার। বিগত ১৪ বছরের অভিজ্ঞতায় এবারই তিনি সবচেয়ে কম বিক্রি দেখছেন বলে জানান।

রাফিন বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। অথচ বাজারে কোনো জোয়ার নাই। অন্যান্য বার এই সময়ে দম ফেলার সময় পাইতাম না, আর এবার বেচাকেনা আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।”

তার ভাষ্য, “মাঠ নাই, পোলাপান এখন আর আগের মতো মাঠে গিয়া খেলে না, তাই খেলাধুলা মানুষের হৃদয়কে আগের মতো স্পর্শও করতে পারে না। তার ওপর মানুষ এখন ঘরে বইসাই অনলাইনে জার্সি-পতাকা অর্ডার কইরা দেয়, দোকানে কাস্টমার আসব কেমনে?”

তবে, খেলার মূলপর্ব শুরু হলে বেচাকেনা বাড়তে পারে বলে আশা এই বিক্রেতার।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়