ছাত্রদলের ভাঙা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাসীরুদ্দীন: ‘সন্ত্রাসী শায়েস্তা করার পদ্ধতি জানি’
নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ উপজেলায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার পর ভাঙা মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এ সময় বিএনপির উদ্দেশ্যে এনসিপির এ নেতা বলেন, “আমাদের আর কোন নেতা-কর্মীদের উপর যদি আপনারা হামলা করেন, তাহলে আমরাও আপনাদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মিলেমিশে থাকার চুক্তি থেকে বেরিয়ে পড়বো। আমরা আমাদের পদ্ধতি জানি কীভাবে সন্ত্রাসীদেরকে শায়েস্তা করতে হয়।”
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তিনি এ বক্তব্য দেন।
এর আগে বেলা তিনটার দিকে অনুষ্ঠান শুরুর আগমুহুর্তে মঞ্চে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন এনসিপি নেতা-কর্মী আহত হয়। এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এ হামলা চালায়। আগের রাতেও অনুষ্ঠানস্থলে একই লোকজন হামলা করে প্যাণ্ডেল ছিঁড়ে ফেলে।
হামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে সেখানে আসেন নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। ভাঙা মঞ্চে রাখা বক্তব্যে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রক্তের উপর দিয়ে হলেও বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করে ছাড়বো। রক্তের উপর দিয়ে হলেও আওয়ামী লীগের বিচার করে ছাড়বো।”
রূপগঞ্জে অনুষ্ঠানে দুইবার হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাকে অনেকে জানের রিস্ক আছে বলেছেন, এখানে যেতে নিষেধ করেছেন। আমার সহযোদ্ধারা আহত হবে আর আমি ঘরে চুড়ি পরে বসে থাকবো, এটা হবে না। আমরা হাসিনার মতো গুন্ডাপান্ডাকে ঠান্ডা করে আসছি, নতুন কোনো গুন্ডাপান্ডাকে ভয় পাই না। আপনি শয়তানি কাজ করলে, আমরা শয়তানের বিরুদ্ধে আছি। আমরা শয়তানকে বাংলাদেশে রাখতে চাই না।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিনবারের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনে মুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নাসীরউদ্দীন বলেন, “নির্বাচনের আগে কথা ছিল- আওয়ামী লীগের বিচার হবে। ইলেকশনের পর বিএনপি সরকার পল্টি মেরেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা নিয়ে ‘অযাচিত’ সঙ্গা দিয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সীমান্ত অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, “রূপগঞ্জ খুবই সুন্দর এলাকা। কিন্তু রূপগঞ্জকে বানানো হয়েছে মাদকের অভয়ারণ্য ও সন্ত্রাসের জগত। রূপগঞ্জকে জমি, ঘর দখলের জায়গা হিসেবে বানানো হয়েছে। এনসিপি যেদিন ক্ষমতায় আসবে, রূপগঞ্জে যখন কাজ করবো তখন কেউ এক ইঞ্চিও দখল করতে পারবে না। রূপগঞ্জে কোনো মাদক ও সন্ত্রাস থাকতে পারবে না।”
“আমাকে বলা হয়েছে- আপনাকে মারতে পারে। আমি বলছি- আমি ওইখানে যাবোই যাবো। আমরা কোনো হামলাকে ভয় পাই না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর প্রতিদিনই হামলা হয়। আল্লাহ আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে তোমাদের চুনোপুটি আমাদের কিছু করতে পারবে না।”
রূপগঞ্জে হামলার পুনরাবৃত্তি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকড়াও করে জিজ্ঞেস করবো- ‘হু আর ইউ? তুমি কীভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছো?’ তোমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীত্বের সময়ে আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে। তুমি বলো সংবিধানের কথা, কোন সংবিধান তোমাকে হামলার অধিকার দিয়েছে? বাংলাদেশের সংবিধান কথা বলার অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের কথা বলে তুমি আমার অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে তুমি সংবিধানের নামে ভুয়া, বাটপারি করছো।”
এ সময় এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





































