০৪ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৩, ৪ জুন ২০২৬

জেলা পরিষদে তর্কের পর

বিএনপি নেতা অকিলকে মারলেন যুবদলের রনি সমর্থকরা

বিএনপি নেতা অকিলকে মারলেন যুবদলের রনি সমর্থকরা

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে এক বিএনপি নেতাকে মারধর করেছেন যুবদল নেতার অনুসারী কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে পরিষদের ভেতর এক অনুষ্ঠানে তর্কের জেরে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

কিল-ঘুষিতে রক্তাক্ত অকিল উদ্দিন ভূইয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার অভিযোগ, জেলা পরিষদের ভেতর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তুচ্ছ এক বিষয়ে তর্কের জেরে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

যুবদল নেতা রনির নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েয়ে বলেও অভিযোগ তার।

যদিও মারধরের বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে জড়িত অনুসারী কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি।

তিনি বলেন, “বিষয়টি একেবারেই অনাকাঙ্খিত। এ ঘটনায় আমার কিছু অনুসারী জড়িত আছেন, কিন্তু এতে আমার কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় ঘটনাটি ঘটে গেছে। আমি অতিউৎসাহী কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি।”

রনি যুবদলের চারজনকে বহিষ্কারের কথাও জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তখন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাতদিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জিয়াউর রহমানের দুর্লভ ছবি প্রদর্শনী ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছিল। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজন উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ সময় পরিষদের কর্তাদের সঙ্গে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন দেখতে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক। এ সময় বিগত দিনে দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে মশিউর রহমান রনি ও অকিল উদ্দিন ভূইয়ার তর্ক হয়। তখন পরিষদ প্রশাসক ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে অকিলকে তেড়ে মারতে আসেন রনির সমর্থকরা। ওই পর্যায়ে বিষয়টি সেখানে মৌখিক ভাবে বিষয়টি মিটিয়ে দেন।

“সিনিয়র নেতারা সেখানেই বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছিলেন। আমি আর রনি একসাথেই সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। কিন্তু মূল ভবনের গেইট পার হবার পরই আমার উপর রনির লোকজন হামলা চালায়। আমার ঠোট ফেটে গেছে,” বলেন বিএনপি নেতা অকিল।

মারধরের ঘটনায় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবগত করেছেন এবং তারা এতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এ কারণে আপাতত তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত দিকে যাচ্ছেন না বলে জানান জেলা বিএনপির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া।

তবে এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়