পুলিশের পিস্তল ছিনতাই: আরও ৩ জনকে খুঁজছে পুলিশ
নারায়ণগঞ্জ শহরে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া গুলিসহ সরকারি অস্ত্র উদ্ধারের পর এখন আরও তিনজন ছিনতাইকারীকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
একইসঙ্গে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন জেলা পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।
গত সোমবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হন সদর মডেল থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি পুলিশের এএসআই লুৎফরের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে কোমড়ে থাকা পিস্তলটি লুট করে মোটরসাইকেলে করে আবার পালিয়ে যায়।
পরে দিনভর অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যায় বন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ৩০ বছর বয়সী যুবক মো. মিশাল। সে নগরীর দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার প্রয়াত মিজানুর রহমানের ছেলে। বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
তাকে নিয়ে মঙ্গলবার সোয়া দুইটার দিকে বন্দর ফায়ার স্টেশনের সামনে একটি গলি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানে আরও দু’জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার হয়। তবে, তাদের দু’জনকে পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য লুৎফর বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় দস্যুতার অভিযোগে একটি মামলা করেন।
এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জিয়াম রাফি (৩৪), ডাকু জুয়েল (২৬) ও আরহাম (৩২) নামের আরও তিনজন জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।
পরে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসপি জানান, ঘটনার পর জেলা পুলিশের একাধিক দল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অভিযান শুরু করে। সারাদিন ও রাতভর সাড়াশি অভিযান শেষে রাতে বন্দর থেকে মিশাল গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকার একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাই হওয়া পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি ছোরা ও একটি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ডিউটিরত এএসআই লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পোশাক পরা পুলিশের কাছ থেকে শুধু অস্ত্র ও গুলি ছিনতাইয়ের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”





































