বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী দিপু অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ এবং চাঁদাবাজিসহ ১৮টি মামলার আসামি দিপুকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের পূর্ব চাঁনপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. দিপু (৩২), বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা মুইচা কালাম ওরফে আবু কালামের ছেলে।
র্যাব জানায়, বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী দিপু ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এলাকায় নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় দিপু বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনাও ঘটত। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করত বলেও জানায় র্যাব।
এছাড়া স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দিপু তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করত এবং ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নিতে বাধ্য করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আধিপত্য বজায় রাখতে দিপু প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত। তার বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে বলে জানিয়েছে র্যাব। তার তত্ত্বাবধানে এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হতো।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি চাকু ও কয়েকটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দিপুর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি অস্ত্র, ১টি হত্যা, ৮টি হত্যা চেষ্টা, ১টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ৩টি চাঁদাবাজি ও ২টি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।





































