২৯ নভেম্বর ২০২৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগাপ্লুত মামুন মাহমুদ, চাইলেন দোয়া

খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগাপ্লুত মামুন মাহমুদ, চাইলেন দোয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি দলীয় প্রধানের সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁয়ের নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির এ নেতা।

মামুন মাহমুদ বলেন, “আজকে অনেক মানুষকে আমরা স্বাস্থ্য সেবা দিবো। অথচ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) বিগত ছয়টি বছর স্বাস্থ্যসেবা পাননি। শেখ হাসিনা তাকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেয়নি। কত নিষ্ঠুর আচরণ করেছে তার উপরে। সেই কথা মনে পড়লে আমরা বিমর্ষ হয়ে যাই। আমরা ঠিক থাকতে পারি না।”

তিনি বলেন, একাত্তরে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ওই সময় দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে পাকিস্তানিদের কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে ধরে রাখতে অদম্য সংগ্রাম করেছেন এ মানুষটি।

“তাকে শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে রেখেছিলেন, চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত নিতে দেয় নাই। আজকে আপনারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। আজকে আপনারা উন্মুক্ত”, যোগ করেন ওই বিএনপি নেতা।

খালেদা জিয়ার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মাত্র ৪০ বছর বয়সে স্বামীকে হারান খালেদা জিয়া। তার দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে তিনি অনেক সংগ্রাম করেছেন। একদিকে পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানদের পড়াশোনা, অন্যদিকে দেশের মানুষের গণতন্ত্র রক্ষা, মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। রাজপথের সেই মানুষটি শেষ পর্যায়ে এসে তার দুই সন্তানকে বিদেশে ফেলে রেখে তিনি দেশে রয়েছেন। মানুষের কাছে থাকার জন্য তিনি বলেছেন, ‘এই দেশ আমার, এই মানুষ আমার। এই মানুষকে রেখে আমি কোথাও যাবো না। এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।’”

তিনি আরও বলেন, “পাষন্ড হাসিনা আজকে জনগণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু খালেদা জিয়া তো ঠিকই বাংলাদেশে রয়েছে। আজকে তিনি আপনাদের দোয়ায় এখনো বেঁচে আছেন। অনেক জটিল রোগ নিয়ে এখনো তিনি বেঁচে আছেন।”

‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো চলছে’ উল্লেখ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, “তারেক রহমান এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারেন না। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। এখনো ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই এই পরিবারের বিরুদ্ধে।”

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া প্রার্থনা করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের প্রয়োজনে, আমাদের ভোটের অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার বেঁচে থাকা প্রয়োজন। তার সন্তান তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। কিন্তু ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। আপনারা সেই ষড়যন্ত্রের জবাব দিবেন।”

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনাও করেন মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, “আপনারা গত ১৬ বছর ভোট দিতে পারেন নাই। স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন নাই। আশা করছি আগামী নির্বাচনে যদি আপনারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে আপনারা যাকে ধানের শীষ দেওয়া হবে তাকেই বিজয়ী করবেন। তাহলে সেই ভোট খালেদা জিয়া পাবেন। সেই ভোট তারেক রহমান পাবেন।”

মামুন মাহমুদের উদ্যোগে চারদিকে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল নুনেরটেকে আয়োজিত বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পে ১৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেন। একইসঙ্গে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়। চক্ষু পরীক্ষার পর বিনামূল্যে চশমাও পেয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুল, সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমেদ, দাতা সদস্য মোঃ ইউনুস, হানজালা শাহ, বারদী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার কাদির হোসেন, সাবেক মেম্বার  জিলানী, সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজী মনির হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মারুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকের আহমেদ সোহান, জেলা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব লুৎফর রহমান রাসেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সদস্য কাজী মাজেদুল, ঢাবি ছাত্র দলের নেতা রবিউল ইভান, বারদী ইউনিয়ন যুবদল নেতা নাসির, যুবদল নেতা জসীম, আশাদুল্লাহ, রুবেলসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়