২৯ নভেম্বর ২০২৫

প্রকাশিত: ২১:৫০, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বক্তাবলী গণহত্যা: ১৩৯ শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি

বক্তাবলী গণহত্যা: ১৩৯ শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি

১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার বক্তাবলী পরগনায় বর্বরভাবে ১৩৯ জন বীর শহীদকে হত্যা করেছিল। আজও এই শহীদদের অনেকের নাম সরকারি শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ৫৪ বছর পরও শহীদদের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ স্বীকৃতি চাইছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে কানাইনগর স্মৃতিস্তম্ভ ও লক্ষীনগর বধ্যভূমিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ সময় স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এদিন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজন করেছে বিশেষ স্মরণ সভা, যেখানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে আলোচনার পাশাপাশি গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, “বক্তাবলী অঞ্চলে ১৩৯ জন শহীদ হয়েছেন, কিন্তু এখনও তাদের নাম যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে যত গণহত্যা ঘটেছে, তার সঠিক তথ্য প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো হয়নি। বিশেষত ৭২ থেকে ৭৫ সালের মধ্যে ২৫ হাজার তরুণ মুক্তিযোদ্ধার হত্যার হিসাব এখনও সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করছে।”

জেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, “বক্তাবলী এলাকার মানুষ আজও শহীদদের স্বীকৃতি ও ন্যায্য দাবিতে অপেক্ষা করছে। আশা করি কেন্দ্রীয় কমান্ডের মাধ্যমে তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল বরণ রায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম খোকন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন সবুজ।

এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া বিএনপি, এনসিপিসহ বক্তাবলী অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানান।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ১৩৯ জন শহীদকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে, শহীদদের নামে স্থাপনা ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে এবং শহীদ পরিবারদের জন্য সরকারি ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত।

এ হত্যাযজ্ঞে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ছাত্রদের মতোই স্থানীয় সাধারণ কৃষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রদেরও হত্যা করা হয়েছিল। বক্তাবলী পরগনার ২২টি গ্রাম পাকিস্তানি বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলেছিল। বহু মানুষকে গুলি করে হত্যা করার পর ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ৫৪ বছরেও শহীদদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এই স্মরণ সভা স্থানীয় মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের জন্য ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয়রা আরও দাবি জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে শহীদদের কষ্টের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়