‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত, তিনজনে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর বলেছেন, “মিথ্যা তথ্যের উপর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব না। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে। কিন্তু জনগণ মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের অংশীদারিত্ব পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের পর যে ইতিহাস তৈরি করা হয়েছিল সেটা ব্যক্তির নামে ও পরিবারের নামে। সেই ইতিহাস কোনদিন বাংলাদেশে টিকবে না।”
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
এ দিন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের উদ্যোগে বক্তাবলী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, “আমাদের বহু মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুরা রণাঙ্গনে জীবন দিয়েছে। আপনি দাঁড়ায়ে বললেন যে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। এটা মুখস্ত বিদ্যা নয়, হিসাবের কথা বলতে হবে। আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছি, আমরা জানি কোন গ্রামে কতজন শহীদ হয়েছে, কোন গ্রামে কত আমাদের মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। আজকে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। রাজনৈতিক স্বার্থে, অর্থের বিনিময়ে, পারিবারিক স্বার্থে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে।”
নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, “এই বক্তাবলীতে ১৩৯ জন শহীদ হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। এমনিভাবে বাংলাদেশের যত গণহত্যা হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস আমাদের প্রজন্মের সন্তানরা জানে না। তাদের শুধু জানানো হয়েছে একটি পরিবারের ইতিহাস। আমরা ৭২ থেকে আজ পর্যন্ত কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, এদেশের জনগনের অর্জিত টাকা বিদেশ পাচার করা হয়েছে সেই হিসাব চাই। কেবল ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ২৫ হাজার তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল তৎকালীন সরকার। এর কোন জবাবদিহিতা নেই।”
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল বরণ রায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম খোকন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।





































